চট্টগ্রাম সংবাদঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে আজ শুক্রবার বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা বোর্ড ক্লাবে সৌজন্য স্বাক্ষাত করেছেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ডা.বংশীধর মিশ্র। স্বাক্ষাতকালে প্রশাসক রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চট্টগ্রাম সফরে আসায় অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও নেপাল প্রকৃতিগতভাবে পাহাড়ি এলাকা। এই মিল ছাড়াও এই দুই অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবনধারায় অনেক মিল রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরী পাহাড়,নদী,সমুদ্রের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে। প্রশাসক নেপালের সাথে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশ-নেপালের ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও অগ্রগতির স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যকে আরো নান্দনিক ছোঁয়ায় সাজিয়ে তুলতে পর্যটনখাতে নেপালী বিনিয়োগের অমন্ত্রণ জানান ডা.বংশীধরকে। এসময় তিনি বিশ্বব্যাপী নেপালের চা শিল্পের যে সুনাম আছে তাঁর প্রশংসাও করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নেপালী রাষ্ট্রদূতের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই-দেশ ও চট্টগ্রাম নগরে ব্যবসা বাণিজ্যের কথা উঠে এলে রাষ্ট্রদূত ডা.বংশীধর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ,নেপাল,ভূটানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হওয়া উচিত বলে মত দেন।

তাঁর এই মতামতে প্রশাসক সুজন সম্মতি প্রকাশ করে বলেন, সার্কভুক্ত রাষ্ট্রের এই দিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সু-সম্পর্ক রয়েছে। এই সর্ম্পকের সূত্র ধরে আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হতে যাওয়া চট্টগ্রাম নগরে নেপালসহ সার্কভুক্ত রাষ্ট্রগুলো এখানে পর্যটন, কৃষিসহ হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। আর এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশেনের পক্ষ থেকে থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে। প্রশাসক চট্টগ্রাম নগরীর ব্যবসা বাণিজ্যের উজ্জ¦ল সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে বলেন,এখানে চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মহেশখালীতে গভীর সমুদ্র বন্দর,পতেঙ্গায় বে টার্মিনাল ও ট্যানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ বা রিজিউনাল কানেক্টিভিটির পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে।

এই রিজিউনাল কানেক্টিভিটির ফলে আগামীতে ঘুনধুম হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত রেললইন সম্প্রসারিত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বিশ্বব্যাপী একটি মাইলফলক সৃষ্টি করবে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীকে শিক্ষাবান্ধব উল্লেখ করে এখানে অধ্যয়রত নেপালী শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী খরচে তাদের পড়াশোনার মাধ্যমে তােদর শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। আগামীতেও নেপালী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রামে আসবেন এটা প্রত্যাশ করেন প্রশাসক। এসময় নেপালী কৃষি সামগ্রী কোম্পানীর নেত্রা বাহাাদুর বুলন্দর,কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কাঞ্চন রাজ পান্ডে ও বিশোন প্রাসাদ, বাংলাদেশস্থ নেপালী রাষ্ট্রদূতের সচিব রিয়া সেটরী, দক্ষিণ আফ্রিকার অনারারী কনস্যুল মো.সোলায়মান আলাম শেঠ প্রমুখ।

ডেস্ক নিউজ…

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here