চট্টগ্রাম সংবাদঃ শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী খোরশেদ আলম সুজনের মত একজন দক্ষ, দ্রত গতি সম্পন্ন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে পাওয়ায় চট্টগ্রামবাসীকে ভাগ্যবান বলে মন্তব্য করেছেন। অল্প সময়ে প্রশাসক কর্পোরেশনের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গেলে কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতীশীলতা ফিরে আসবে আশা করা যায়। তিনি আজ রোববার বিকেলে কর্পোরেশনের পুরনো নগর ভবনের কে.বি. আবদুচ সাত্তার মিলনায়তনে চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চসিকের শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া, সিটি কর্পোরেশনের সচিব মুহাম্মদ আবু শাহেদ চৌধুুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ তাদের স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো উপমন্ত্রী বরাবরে উপস্থাপন করলে, তিনি তা মনোযোগের সাথে শুনেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো অবকাঠামোগত উন্নয়নের অপ্রতুলতা, একাডেমিক ভবন না থাকা, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত না হওয়া ইত্যাদি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আরো বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা সনাতনী কায়দায় চললে দক্ষ জনবল সৃষ্টি হবে না। অপ্রয়োজনে যেকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনার্স কোর্স চালু, শাখা বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করলে শিক্ষার মানোন্নয়ন বৃদ্ধি হয় না। আমাদের কারিগরী শিক্ষা, ট্রেড কোর্সের উপর জোর দিতে হবে। এ সময় মন্ত্রী চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড কোর্স চালুর প্রস্তাব করনে। তিনি বলেন, শিক্ষা অর্জনে অনার্স, মাস্টার্স কোর্সকে শিক্ষাক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা যাবে না। অনার্স ডিগ্রি অর্জন করে জেন্টেলম্যান মানসিকতা নিয়ে বেকারত্ব ঘুরলে,তা দেশের জন্য বোঝা। এর চাইতে কারিগরী, ট্রেডকোর্স বা পলিটেকনিক শিক্ষাঅর্জনে বেকারত্ব দূর হবে।

শিক্ষকদের প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এমপিওভুক্তি এবং জায়গা থাকা সাপেক্ষে নতুন ভবন নিশ্চিত করা যাবে। তিনি বলেন, এমপিও না থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার যোগ্যতাই থাকেনা। এমপিও অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি অবশ্যই প্রয়োজন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে আমার আহ্ববান থাকবে আপনারা আপনাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যে সরকারি বরাদ্দ পান ও কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যে অর্থ ব্যয় হয় তার একটি তুলানমূলক চিত্র নির্ণয় করবেন। তাহলে কর্পোরেশন কত ভুর্তকি দিচ্ছে তা বের করা যাবে। এসময় মন্ত্রী প্রতি মাসে ৫’শ টাকা বেতন ও নতুন শিক্ষার্থীর ভর্তির ক্ষেত্রে সাড়ে তিন হাজার টাকা সরকারি নীতিমালা অনুসারে বেশি নয় উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দারা কেন জানি তাদের সন্তানদের পড়াশুনার জন্য এই পরিমান টাকা ব্যয় করেত চান না। অথচ দেশর সব জায়গায় তা কার্যকর হলো। শুধু কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষার্থীর বেতন প্রতিমাসে সাড়ে তিনশ টাকা। এটা আশ্চার্যজনক। তিনি চসিক পরিচালিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ভোকেশনাল ইভেন্ট ও ট্রেডকোর্স চালুর প্রস্তাব দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বলেন, আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ও শিক্ষার বিষয় পরিবর্তন করুন। লিঙ্গ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সমাজে বৈষম্য তৈরি করে। গৃহস্থালীকাজের ক্ষেত্রে নারী পুরুষ বিভাজন করা যাবে না। হোটেল রেষ্টুরেন্টে বাবুর্চিরা রান্না করছে, ঘরে মহিলারা রান্না করে খাওয়াবে এই মানসিকতা পরিহার করুন। তিনি এই সময় কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগকে ইউসেপ মডেলের শিক্ষা কারিকুলাম অনুসরন করতে বলেন। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে চসিক অধিগ্রহন করায় মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, অধিগ্রহণ তো করতে পারে একমাত্র সরকার, কর্পোরেশন কি করে করলো।

সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, সরকার এতো উন্নয়ন করছে তারপরও কর্পোরেশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, শ্রেণি কক্ষের সংকট রয়ে গেল। তিনি বলেন, বঙ্গন্ধুর দ্বিতয়ি বিপ্লবের কর্মসূচি ছিলো অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক কারিগরী ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। আজ উন্নয়নের এই পর্যায়ে শিক্ষার জন্য ভবনের অপ্রতুলতার কথা শুনতে হবে। এটা কাম্য নয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন ১২ বছর চাকরি করেও নিজ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে পারলেন না, এর চাইতে দুঃখজনক হতে পারে না ! এসব শিক্ষকের তো শাস্তি হওয়া উচিত। প্রশাসক শিক্ষকদের ডায়নামিক হওয়ার আহ্ববান জানিয়ে বলেন, আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর। তাই আপনাদের মধ্যে সৃজনশীলতার প্রয়োজন।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here