কোভিড-১৯ সম্পর্কে ন্যাশনাল গাইড লাইনের সর্বশেষ সংস্করণ

শেয়ার করুন:

কোভিড ১৯ রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনসাধারণের জন্য কিছু তথ্যঃ

কোভিড -১৯ বা করোনা সম্পর্কে এখন জনগণ কম বেশি জানেন। রোগটা নতুন হওয়াতে এর অনেক কিছু ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে, তাই ন্যাশনাল গাইড লাইনের সর্বশেষ সংস্করনের অনুসরণে কিছু তথ্য পাঠকদের জন্য নীচে শেয়ার করলাম।

কোভিড বা করোনার লক্ষণসমূহঃ
জ্বর, শুকনো বা কফ সহ কাশি, গলা ব্যাথা, নাক টানা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, ব্যাথা করা, মাথা ব্যাথা, নাকের গন্ধ চলে যাওয়া, ডায়েরিয়া, বমিভাব বা বমি দুর্বলতা, অবসাদ, শ্বাস কষ্ট।

টাইপঃ আক্রান্তের ধরণ অনুযায়ী কোভিড রোগিকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১) মৃদু আক্রান্ত
২) মধ্যম আক্রান্ত
৩) গুরুতর আক্রান্ত
৪) সংকটাপন্ন।

কিভাবে বুঝবেন কোন ধরণের কোভিড হয়েছে?
১. মৃদু আক্রান্ত কোভিডঃ

জ্বর, সর্দি কাশি হলে বা ছোট খাট অন্য উপসর্গগুলোর এক বা একাধিক সন্নিবেশ থাকলে কিন্তু বুকের এক্সরে নরমাল থাকলে বুঝতে হবে মৃদু আকারের কোভিড হয়েছে।

কোন কোন কোভিড রোগি আছেন তাদের কোন লক্ষণ নাও থাকতে পারে তাদেরকে লক্ষণবিহীন বলা হয়, তাদেরকেও আইসোলেশনে থাকতে হয়।

২. মাঝারি আক্রান্ত কোভিডঃ
– এই গ্রুপের রোগিদেরজ্বরের সাথে কাশি থাকে, হালকা শ্বাসকষ্ট হয়, শ্বাসের গতি ৩০ এর নীচে থাকে এবং পালস অক্সিমিটারে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা ৯৪% এর নীচে থাকে। এক্স রে করা হলে সাধারণত বুকের দুদিকে অথবা যে কোন একদিকে নিউমোনিয়ার উপস্থিতি লক্ষণীয়।

৩. গুরুতর কোভিডঃ এতে মাঝারী কোভিডের লক্ষণ গুলো থাকে, শ্বাসকষ্ট প্রবল হয়, শ্বাসের গতি ৩০ এর বেশি হয় , পালস অক্সিমিটারে স্যাচুরেশন ৯৪% এর নীচে নেমে যায়, রোগীর অস্থির হয়ে উঠে।

৪. সংকাটপন্ন কোভিডঃ গুরুতর লক্ষণের সাথে রোগির প্রেসার থাকবে না (শকে যাওয়া) বা প্রেসার কমে যাওয়া, ইনফেকশনের মাত্রা বেড়ে রোগি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের অন্য এক একাধিক অংগ অকেজো হতে শুরু করা, রেসপিরেটরি ফেইলিউর হওয়া যার জন্য ভেন্টিলেটরের সহায়তা বা লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে।

কোভিড রোগিদের কি কি টেষ্ট করতে হয়?
সন্দেহজনক সকল রোগীর জন্য শুরুতে কিছু টেষ্ট করতে হয় যেমনম
CBC, CXR (CT Chest করতে পারলে আরো ভালো), CRP, RT PCR (কোভিড টেষ্ট)।

মনে রাখতে হবে কোভিড টেষ্ট ফলস নেগেটিভও আসতে পারে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অন্যান্য লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ক্ষেত্রে বুকের সিটি স্ক্যান অলটারনেটিভ বিকল্প।

কোভিডের মাত্রার উপর ভিত্তি করে আরো টেষ্ট করতে হয়। যেমনঃ

অর্গান স্পেসিফিক টেষ্ট, Electrolytes, ABG, D-dimer, LDH, Ferritin, Procalcitonin,, Lactate, Echo, Troponin।
এসব টেষ্ট গুলো ভর্তিকৃত রোগিদের ক্ষেত্রে করা হয়।

চিকিৎসাঃ

লক্ষণ বিহীন কোভিড রোগী ও মৃদু মাত্রায় আক্রান্ত কোভিড রোগি ছাড়া বাকী সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।

মৃদু মাত্রার রোগী যাদের কো-মরভিডিটি (প্রেসার, ডায়াবেটিস, এজমা, হার্টের অসুখ, কিডনির সমস্যা ইত্যাদি রোগ) আছে তাদের সংক্রমণ মৃদু হলেও তাদেরকেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

যাদের লক্ষণ নাই বা মৃদু মাত্রার লক্ষণ তারা কি করবেন?
তাদের চিকিৎসা নিম্ন রুপ

১) সাধারণ চিকিৎসাঃ

হোম আইসোলেশন –
নিয়ম সমূহঃ
– চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসা, বাড়ি বা
প্রতিষ্ঠানে আইসোলেশন থাকবেন
– আলাদা রুমে থাকবেন
– শারীরিক দুরত্ব (৫-৬ ফুট) বজায় রাখবেন
– বাসায় কোন ভিজিটর এলাউড না,
– ঘন ঘন হাত ধোতে হবে
– হাঁচি কাশির সংস্কৃতি মেনে চলবেন।
– মাস্ক পড়তে হবে, বাড়ির বাকি সদস্যদেরও মাস্ক
পড়া বাধ্যতামূলক
-পুষ্টিকর খাবার খাবেন
-দুঃচিন্তামুক্ত থাকা,
-স্ট্রেস না নেয়া,
– চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত কিছু গ্রহন না করা।
-শিশু, বৃদ্ধ, ক্রোনিক রোগি থেকে দুরে থাকা।
-দিনে দুবার জ্বর মাপা, সম্ভব হলে পালস
অক্সিমিটারে অক্সিজেনের মাত্রা দেখা
– শেখানো নিয়মে ব্রেদিং এক্সারসাইজ করা।

২) স্পেসিফিক চিকিৎসাঃ

-Tab Paracetamol, জ্বর বা ব্যাথা থাকলে দিনে ৩/৪ বার যদি প্রয়োজন হয়।
-Antihistamin- tab fexofenadin
-প্রয়োজনে কাশির শিরাপ।
-এন্টিবায়োটিকের কোন প্রয়োজন নাই, ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। তবে কোন রেজিস্টার্ড ফিজিশিয়ান যদি মনে করেন তবে খেতে পারেন।
-নেবুলাইজার গ্রহন করবেন না, কারণ নেবুলাইজার এরোসল তৈরী করে ভাইরাসকে বাতাস উড়াবে এবং সবাইকে আক্রান্ত করে ফেলবে তবে ইনহেলার নিতে পারবেন।
-অন্যান্য ঔষধ যা রোগের আগে থেকে চলে আসছে সেসব চলবে যথানিয়মে।
-অন্যান্য রোগ ব্যাধি যা থাকে যেমন প্রেসার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কো মরভিড ডিজিজ (পূর্ব থেকে থাকা অন্য কোন রোগ) থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে সে ক্ষেত্রে ইনজেকশন এনোক্সপারিন ৪০ মিলিগ্রামের ডেইলি দেয়া হয় কিন্তু হাসপাতালে যদি ভর্তি হতে না পারেন, সিট না পান তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক কোন স্বার্থকর্মীর সহযোগিতায় ঐ ইনজেকশনটা বাসায় ও নিতে পারবেন। তবে কখনো নিজ সিদ্ধান্তে এই ইনজেকশন নিতে যাবেন না।

আইসোলেশন থাকাবস্থায় কখন বুঝবেন রোগির কন্ডিশন খারাপ হচ্ছে বা কখন রোগিকে হসপিটালে ভর্তি করতে হবে?

১) যদি শ্বাস কষ্ট, বুকে ব্যাথা বা বেশি কফ যাওয়া বা কফের সাথে রক্ত যায়।
২) মানসিক বিকার বা আবোল তাবোল বকলে
৩) অতিরিক্ত অবসাদ, বা এত দুর্বল যে উঠতে বসতেও পারছেন না তখন।
৪) রক্তে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা যদি ৯৪% এর নীচে নেমে গেলে।

সিট খালি নাই, ভর্তি হতে পারছেন না কি করবেন?
গুরুতর বা সংকটাপন্ন ক্রিটিকেল রোগিকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। ভর্তির জন্য চেষ্টা চালাতে হবে, হাসপাতালে সিট না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িতে বা বাসায় চিকিৎসা চালাতে হবে।
কখনো নার্ভাস হবেন না, হাল ছাড়বেন না।
একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার ও একটা পালস অক্সিমিটার যোগাড় করতে হবে। তারপর অক্সিজেন দিতে হবে।
পালস অক্সিমিটারের মাত্রা দেখতে হবে বেশি কমে যাচ্ছে কিনা।
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মতো সকল ঔষধ চালিয়ে যেতে হবে।
রোগি টিকে থাকলে এক সময় বডি ইমিউনিটি তাকে সারিয়ে তুলবে।


শেয়ার করুন:

রিপ্লাই/মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন