ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে যখন সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশ সৌদি আরব ও ইসরায়েল, ঠিক তখনই ইরানের নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস মাকরান’। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন পদক্ষেপ নিল ইরান।

৭৪৮ ফুট দৈর্ঘ্যের আইআরআইএস মাকরান ইরানের সামরিক নৌবহরের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। এই নৌযানে একসাথে হেলিকপ্টার, গানশিপ ও ড্রোন উঠানামা করতে পারবে। ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম এই নৌযানটি উত্তাল সমুদ্র বা প্রতিকুল অবস্থায়ও যেকোনো অভিযান চালাতে পারবে।

ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে এডেন উপসাগরের বাবেল মান্দেব এবং লোহিত সাগরের মতো এলাকায় ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় এই জাহাজ লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে। এ ধরনের জাহাজকে ভ্রাম্যমাণ বন্দর বলা হয় এবং সামুদ্রিক অভিযানের সময় জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে থাকে।

আইআরআইএস মাকরান আগে ছিল একটি তেলের ট্যাংকার। পরে ইরানে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে যুদ্ধযানে রূপ দেওয়া হয়। মূলত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, পরিবহনের প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ, চিকিৎসা সহায়তা এবং হোভারক্রাফট ও দ্রুতগামী নৌকাগুলোর ঘাঁটি হিসেবে কাজ করার জন্য লজিস্টিক সহায়তা দিতে এটি সংস্কার করা হয়। এখান থেকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন অভিযানে পাঠানো হবে।

ইরানের সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে আইআরআইএস মাকরানের অভিষেক হয়। ওমান সাগরে দুই দিন ধরে এই সামরিক মহড়া চলছিল। ইরানের নৌ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল হামজেহ আলি কাভিয়ানি এই মহড়ার মুখপাত্র ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই মহড়ার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করতে পারবো এবং নিজেদের শক্তিমত্তার মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাবো।’

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here