শিশুদের রক্ষায় কাজ করে এ বছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরষ্কার পেয়েছে বাংলাদেশের সাদাত রহমান সাইবার বুলিং’ থেকে ।

আমি খুবই সাধারণ একটি ছেলে আমি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করি । আমি যদি সাইবার বুলিং থেকে কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করতে পারি তাহলে অন্যরা কেন পারবে না?’
সাইবার বুলিং থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করে এবছর আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের কিশোর সাদাত রহমান।

নেদারল্যান্ডসের হেগে শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) এক অনুষ্ঠানে নড়াইলের ১৭ বছর বয়সী সাদাতের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সাদাতকে এই পুরস্কার দেন।

শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নাজুক অবস্থায় থাকা শিশুদের সুরক্ষায় কাজের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার দেয় “কিডস রাইটস” নামের একটি সংগঠন।
১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পারে।

কিডস রাইটসের বিশেষজ্ঞ কমিটি ৪২টি দেশের ১৪২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সাদাতকে এবছরের পুরস্কারের জন্য বিজয়ী ঘোষণা করেছে বলে সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে প্রতি তিনজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের কারণে উদ্বেগ, বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদে নিদ্রাহীনতা, নিজের ক্ষতি করা বা এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাইবার বুলিং বন্ধে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি সাদাত “সাইবার টিনস” নামের একটি মোবাইল অ্যাপও চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা উপকৃত হচ্ছে।

পুরস্কারের সঙ্গে একলাখ ইউরো পাচ্ছেন সাদাত, যে অর্থ সে তার এই কাজে ব্যয় করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক এই পুরস্কার পাওয়ার পর সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে সাদাত।

সাদাতকে নিয়ে কিডস রাইটস জানায়, “এই পুরস্কার অর্জনের মধ্যদিয়ে সে একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম পেলো, যা তাকে বিশ্বের কোটিকোটি মানুষের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।”

সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা নাড়া দিয়ে যায় সাদাতকে। এরপর সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কিশোর-কিশোরীদের সহায়তার জন্য সে তৈরি করে “সাইবার টিনস” অ্যাপ।

বাংলাদেশে সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যাগুলোর একটি হলো, শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা সাধারণত এর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ বা বাবা-মাকে বলতে ভয় পায়। এই অ্যাপ তাদের নিরাপদ ইন্টারনেটের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গোপনীয়তার সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দেয়। এই সংগঠনের মাধ্যমে সাইবার বিশেষজ্ঞ, সোশ্যাল ওয়ার্কার ও পুলিশকে এক জায়গায় নিয়ে আসে সাদাত।

এই অ্যাপের মাধ্যমে এরইমধ্যে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৩০০ এর বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছে। ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে রিপোর্ট করা ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা প্রদানসহ নানাভাবে এই সহায়তা করা হয়েছে। এই অ্যাপের কল্যাণে সাইবার অপরাধের জন্য আটজনকে গ্রেপ্তার করাও সম্ভব হয়েছে।

বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ইন্টারনেট সেইফটি নিয়ে সেমিনারের মাধ্যমে সাদাত ৪৫ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। নিজের এলাকার প্রতিটি স্কুলে “সাইবার ক্লাবস” তৈরি করেছে সে।

এসব ক্লাবে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেট সম্পর্কে জানার সুযোগ দেওয়া হয়। এখন নিজের লোকালয় ছাড়িয়ে বাংলাদেশজুড়ে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তার অ্যাপকে কাজে লাগাতে চান সাদাত।

১৭ বছর বয়স তার এখনই কিশোর সাইবার বুলিং বন্ধে সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলার পাশাপাশি ‘সাইবার টিনস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করে, যার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা। দেশের জন্য বিশেষ এই অর্জনে সাদাত’কে দেশি টুয়েন্টিফোর এর পক্ষে থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা ।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন