সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কনটেন্ট আপলোড করলে কঠোর ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন:


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিনোদন প্ল্যাটফর্মগুলোতে দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পর্নের কাছাকাছি যেসব কনটেন্ট আপলোড করা হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভারতের নতুন হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন সংশোধন করেছে। বাংলাদেশে এক সময় এসিড নিক্ষেপ বেড়ে গিয়েছিল। যখন কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন হল তখন এসিড নিক্ষেপ কমে গেছে। এখন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা প্রায় ঘটেই না। একইভাবে আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখার প্রেক্ষিতে এই ধরনের অপরাধও অনেক কমে যাবে। খবর বিডিনিউজের।
শুধু আইন সংশোধনের মধ্যেই কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা হবে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচার যাতে দ্রুত হয় সেটির উপরও সরকার গুরুত্ব আরোপ করছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেভাবে আমাদের দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং আমাদের মূল্যবোধ সেগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্নের কাছাকাছি যেসব কনটেন্ট আপলোড করা হয় সেগুলো এই ব্যাধি ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে আমরা মনে করি। সেগুলোর ব্যাপারেও আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সরকার ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে আইন সংশোধন করেছে বলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধন করা হল, তাহলে কী এটা বিএনপির পছন্দ হয়নি? এই প্রশ্নই তো দেখা দেয়। আইন সংশোধন বিএনপির পছন্দ হয়নি, এটাই তো বোঝা যায় তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে।
ভারতের নতুন হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে ফিল্ম নির্মিত হচ্ছে সেটি নিয়ে আলোচনা করেছি। সেটি যাতে মুজিববর্ষের মধ্যেই সমাপ্ত করা যায়, সেভাবেই সিডিউল করা হচ্ছে। মুজিববর্ষের মধ্যেই ফিল্ম করা ও পুরো কাজটি শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া যৌথভাবে আরও একটি ছবি নির্মাণ করার কথা রয়েছে। সেটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি ডকুমেন্টারি। সেটি নিয়েও আমরা কাজ করছি। সেটিতে পরিচালক বাংলাদেশ থেকে হবে, কো-ডিরেক্টর হবে ইন্ডিয়া থেকে। সেটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যেন বাংলাদেশের বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল দেখা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখা যায়। ত্রিপুরাতে দেখা যায়, মেঘালয়ে দেখা যায়। সমস্যাটা হচ্ছে পশ্চিমবাংলায়। পশ্চিম বাংলায় আমাদের বেশিরভাগ চ্যানেল দেখা যায় না। দু-একটি চ্যানেল দেখা যায়। সেটি কীভাবে করা যায় এটি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো রেস্ট্রিকশন নেই। পশ্চিম বাংলা সরকারও বলে তাদের পক্ষ থেকেও কোনো রেস্ট্রিকশন নেই। কিন্তু সেখানে কিছু অবস্ট্রাকল অবশ্যই আছে। সেটি আমরা কীভাবে সমাধান করতে পারি সেই নিয়ে আলোচনা করেছি।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, মংলা বন্দর ব্যবহার করে যাতে উভয় দেশ উপকৃত হয়, বিশেষ করে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো যাতে দ্রুত করতে পারে, সেখানে যে রোড ও রেল সড়কের যে সংস্কার কাজ চলছে সেগুলো যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। চলচ্চিত্র শিল্প ও গণযোগাযোগ খাতে ভারত কীভাবে সহায়তা করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছেন, যে প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত চমৎকার মনে হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের আদান-প্রদান, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও আদান-প্রদানের উপর একটি কর্মসূচি শুরু করতে চায়।


শেয়ার করুন:

রিপ্লাই/মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন