বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)। এই মামলায় রায়ে ৬ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক রায় পড়বার পুরো সময়জুড়েই শান্ত ও স্থির ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নি।

রিফাত হত্যা মামলার রায়ের দিন ৩৫ মিনিট ধরে রায় পড়েন বিচারক। এসময় মিন্নিসহ অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। রায় শুনেও বিচলিত হননি মিন্নি। তাকে এসময় আতঙ্কিত হতে বা কাঁদতে দেখা যায়নি। রায় ঘোষণার পর এমনটাই জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম. মজিবুল হক কিসলু।

তিনি এসময় বলেন, বিচারক যখন রায় ঘোষণা করেন, রায়ে ফাঁসির আদেশের কথা শুনেও মিন্নি বিচলিত হননি। তাছাড়া চোখের পানিও ঝরতে দেখিনি। আমি ভেবেছিলাম, ফাঁসির আদেশের কথা শুনে মিন্নি অসুস্থ হবেন বা জ্ঞান হারাবেন, কিন্তু তা দেখা যায়নি। তাকে সুস্থ স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল।

মিন্নি ছাড়াও আলোচিত এই মামলায় ফাঁসির আদেশ পেয়েছেন রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ঘটনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নৃশংসভাবে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার বহুল আলোচিত এ মামলায় পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ১০ জনের বিচার চলে জজ আদালতে। বাকি ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার চলছে বরগুনার শিশু আদালতে আলাদাভাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন