অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম (৭১) আর নেই। আজ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক  বলেন, ‘আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ইন্তেকাল করেছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে আজ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মেয়ের জামাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ রেজাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল জ্বর অনুভব করেন। পরের দিন ৪ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ওই দিনই তাঁকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে হার্টঅ্যাটাক হলে তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর জ্ঞান স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, কিন্তু হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। তবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আগের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে শুরু করে।  কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ফুসফুস ঠিকমতো কাজ করছিল না। অবস্থা সংকটাপন্ন হতে থাকে।’

মাহবুবে আলমের শিক্ষাজীবন

১৯৪৯ সালে ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামন্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবে আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ (সম্মান) এবং পাবলিক প্রশাসনে এমএ পাস করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবিধান এবং সংসদীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইসিপিএস) থেকে সাংবিধানিক আইন এবং সংসদীয় প্রতিষ্ঠান এবং পদ্ধতিতে দুটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

মাহবুবে আলম আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৫ সালে হাইকোর্টে অনুশীলন শুরু করেন এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৫-২০০৬ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাহবুবে আলম ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট। তিনি এর আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন