দেশী 24 শিক্ষা ডেস্ক.
১০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি

সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এস.এস.সি) ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১০৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। তবে এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে তিনটি কম। ২০১৯ সালে শূন্য শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১০৭টি। তারও আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০৯টি।

রোববার (৩১ মে) এস.এস.সির ফল ঘোষণা উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে— এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজার ২৩টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৩৮টি। সে হিসাবে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।

এবার ২৮ হাজার ৭৯৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাসের হার গড়ে ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছর ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। সে তুলনায় এবার কিছুটা বেড়েছে পাসের হার।

অপরদিকে টানা পঞ্চমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। পাসের হার ও সংখ্যা দুদিক থেকেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। রোববার (৩১ মে) ঘোষিত ফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে মেয়েদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আর ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাস করেছে সবচেয়ে বেশি ৯৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম মানবিকে ৭৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এ বছর দেশের বাইরের ৯টি কেন্দ্রে ৩৩৬ পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৩১৮ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

অপরদিকে পাসের হারে এগিয়ে আছে যশোর বোর্ড। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৭.৩১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৯.১০। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩। কুমিল্লা ৮৫.২২, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাশের হার ৮০.৩১, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৪৩৪ জন। বরিশাল বোর্ড পাশের হার ৭৯.৭০, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৮৩। সিলেট বোর্ড পাশের হার ৭৮.৭৯ , জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৩ জন। দিনাজপুর বোর্ডে বোর্ড পাশের হার ৮২.৭৩ , জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৬ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে বোর্ড পাশের হার ৮৪.৭৫, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮ জন।

এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্কুলে গিয়ে ফল জানার সুযোগ নেই। তাই এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসির ফল প্রকাশ করছে শিক্ষাবোর্ড। ফল পেতে SSC স্পেস, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস, রোল নম্বর স্পেস, পাসের সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন