রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ দোকানীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মঙ্গলবার (১২মে) সকাল ১০ থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলায় দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান সীতাকুণ্ড পৌর সদরে উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় সীতাকুণ্ড পৌরসদরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে (ফার্মেসী) মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পাঁচটি মামলায় পাঁচজন দোকানীকে দোষী সাব্যস্ত করে ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। জরিমানা আদায়কৃত ফার্মেসীর মধ্যে রয়েছে আল আমিন ফার্মেসী ২ হাজার টাকা, আশরাফা ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা, ভাই ভাই মেডিকেল স্টোরকে ৩ হাজার টাকা এবং কামাল মেডিকেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া রুবেল নাথ নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তার ডেন্টাল স্কয়ারকে সিলগালা করে দেওয়া হয়। ফার্মেসির ঔষধ পরীক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়, যার মধ্যে কিছু ঔষধের মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এক রোগী দাঁতের চিকিৎসার জন্য এসেছেন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারে। চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। রোগী বেডে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাক্তারের কাছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে চান, চিকিৎসক কে? উপস্থিত লোকজন জানান, চিকিৎসক নেই। যিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন উনি ডাক্তার নন, ডাক্তারের সহকারী। ডাক্তারের চেম্বারে প্রাইভেট প্র্যক্টিস করছেন ডাক্তার পরিচয়ে। অথচ প্যাডে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রেসক্রিপশন লিখছেন। কিন্তু উনি সনদপ্রাপ্ত ডাক্তার নন। একসময় ফার্মাসিস্ট ছিলেন। কিন্তু ডাক্তার হিসেবেই পরিচিত।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক-উর-রহমান জানান, করোনা ভাইরাস এবং পবিত্র মাহে রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে এবং সরকারী নিয়ম নীতি পালন নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়সহ সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here