করোনাভাইরাস: আক্রান্ত বেড়ে ২০, আশঙ্কাজনক ১

শেয়ার করুন:


বাংলাদেশে আরো তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের মধ্যে সত্তরোর্ধ্ব একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা শুক্রবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এই তিনজনকে নিয়ে বাংলাদেশে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কারও মৃত্যুর তথ্য আসেনি; এ পর্যন্ত বাংলাদেশে একজনেরই মৃত্যু হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন নারী, তার বয়স ৩৮ বছর। দুজন পুরুষের মধ্যে একজনের বয়স ৩০ এর ঘরে, অন্যজনের ৭০ এর বেশি।

সত্তরোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি ‘ক্রিটিক্যাল কনডিশনে’ আছেন। তার ‘কোমরবিডিটি’ (অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতা) আছে এবং তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে জানান নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, ত্রিশোর্ধ্ব পুরুষ রোগী ইতালি ও জার্মানি ঘুরে এসেছেন। আর বাকি দুজন সংক্রমিত হয়েছেন অন্যদের মাধ্যমে। তাদের মধ্যে ওই নারী ইতালিফেরত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ আক্রান্ত সন্দেহে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য আইসোলেশনে রাখা ব্যক্তি ৩০ জনকে। এছাড়া পরীক্ষার জন্য গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৬ জনের। এই সময়ে ৪৪ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এক ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত করার গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, তাকেও আক্রান্তের তালিকায় রাখা হয়েছে কি না।

উত্তরে আইডিসিআরের মেডিকেল এন্টোমোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, “ওই ব্যক্তি এখানে অন্তর্ভুক্ত নন। ওটা রি-টেস্টিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে।”

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের’ (সামাজিকভাবে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়া) কোনো ঘটনা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন বিদেশ ফেরতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আক্রান্ত পাচ্ছি আমরা। পরিবারের বাইরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।”

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর।
ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল।

এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইডিসিআর জানায় সোমবার।

আর মঙ্গলবার আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এরপর বুধবার নতুন করে একজন নারী ও তিনজন পুরুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তাদের মধ্যে একজন আগে আক্রান্ত একজনের পরিবারের সদস্য। বাকি তিনজন বিদেশফেরত, দুজন ইতালি থেকে এবং একজন কুয়েত থেকে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার ইতালিফেরত এক ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের সংক্রমণ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ জনে।
তাদের মধ্যে একজন নারী, দুইজন পুরুষ। ইতালিফেরত পরিবারের যে সদস্যের সংস্পের্শে আসায় তারা সংক্রমিত হয়েছেন, তার মধ্যে আগেই এ ভাইরাস ধরা পড়েছে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম দফার তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬০টি দেশে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দশ হাজার।

হটলাইন
করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করেছে আইইডিসিআর। তাতে ফোন করলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন আইইডিসিআরের কর্মীরা।
হটলাইন নম্বর: ০১৯৪৪৩৩৩২২২

কেউ চাইলে iedcrcovid19@gmail.com ঠিকানায় ই-মেইল করে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। এছাড়া ফেইসবুক গ্রুপ Iedcr,COVID-19 Control Room এর ইনবক্সে সমস্যার কথা বলতে পারবেন।


শেয়ার করুন:

রিপ্লাই/মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন