meaning of your name

নামের অর্থ না বুঝে শিশুর নামকরণে আমাদের জুড়ি নেই। আমরা এমন অনেক নাম রেখে থাকি যেগুলো আসলে রাখার আগে আপনাকে ভালো করে ভেবে দেখতে হবে এই নামটি কতোটা যুক্তিযুক্ত।

আসুন দেখি প্রচলিত কিছু নাম:

* ‘খায়রুল বাশার’ নামটি চমৎকার। অর্থ ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানব’। এ নামটি একমাত্র নবীজীর (সঃ) ব্যাপারে প্রযোজ্য। কিন্তু আমরা তা মানি না। আরবি ভাষাভাষীরা মানেন।
* ‘কামরুননাহার’ মানে ‘দিনে চাঁদ’।
* তেমনি একটি নাম শামসুননাহার। এ নামের অর্থ ‘দিনে সূর্য’। সূর্য পুরুষবাচক হবার কারণে মেয়েদের জন্য নামটি বেখাপ্পা।
* আবুল বাশার মানে ‘মানব জাতির পিতা’। নামটি হযরত আদমের (আঃ) খেতাব। এ খেতাবকে নাম হিসেবে ব্যবহার করা অযৌক্তিক। তেমনিভাবে ‘কলিমুল্লাহ’ নামটি ব্যবহার করা অনুচিত। এ নামটি স্রেফ হযরত মুসার (আঃ) জন্য প্রযোজ্য। তিনি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে তাকে কলিমুল্লাহ বলা হয়।
* ‘ফারহানা’ অর্থ সুখ, ‘ফারাহ’ অর্থ আনন্দ।
* ‘তোফায়েল’ অর্থ মধ্যস্ততাকারী।
* ‘তওফিক’ অর্থ সামর্থ্য।
* ‘তানভীর’ অর্থ জ্ঞানের আলোকপ্রাপ্ত।
* ‘ফরমান’ অর্থ (ডিক্রি) হলেই কি তার পক্ষে ফরমানজারি সম্ভব?
* মাহজাবিন মানে ‘চাঁদের মতো কপাল’। তাহলে ‘চান্দা মাহজাবিন’ এর অর্থ কি? ডাবল চাঁদের কথা শুনলে বিজ্ঞানীদেরও মাথা চক্কর দেবে।
* শাবানা এফডিসিতে গেলে হয়তো শাবানাকে (ভদ্রমহিলা) পাওয়া যেতে পারে।
* তবে ভুলেও রোজিনাকে তার নামের আরবি অর্থ বলতে যাবে না। কারণ আরবিতে ‘রোজিনা’ মানে দিন-মজুর। তাকে বলতে হবে : ম্যাডাম, ইংরেজি ‘রৌজ’ থেকে রোজিনা নামটি এসেছে।
* ‘নাসিম’ আর ‘নাসিমা’ নামের লিঙ্গান্তর করতে গেলে বেকায়দায় পড়তে হয়। কারণ উভয় নামের অর্থ ‘বাতাস’। মাকসুদ আর মাকসুদা নামের অর্থেও তফাত নেই। উভয় নামের অর্থ ‘উদ্দেশ্য’।
* আবার ‘নীলা’র সঙ্গে নীল রঙের সম্পর্ক খোঁজা অর্থহীন। নীলা আরবি শব্দ। অর্থ ‘রত্ন’।
* বাংলাদেশে ‘পারভীন’ নামের ছড়াছড়ি দেখা যায়। কারণ ‘নক্ষত্রপুঞ্জ’ ছড়িয়ে ছিটিয়েই থাকে।
* অঙ্কে আমি বরাবরই কাঁচা! তাই পাশের বাড়ির আসলাম সাহেবের বিলাত পড়ুয়া বড় ছেলের নাম ‘আসগর’, যার অর্থ (সর্বকনিষ্ঠ)। শুনে আমি হিসাব মেলাতে পারি না। আবার তার চার বছর বয়সী ছোট ছেলের নাম ‘রুশদ’ (সাবালক) দেখে রীতিমতো ভিমড়ি খাই। শুধু কি তাই? ভদ্রলোক তার প্রথম মেয়ের নাম রেখেছেন ‘রাবেয়া’। রাবেয়া মানে চতুর্থ।
* অর্থ না বুঝে নাম রাখলে তা ‘অবিবাহিত’ মেয়েকে ‘বিবাহিত’ বানিয়ে দিতে পারে। এমন একটি নামের অংশ হচ্ছে ‘খাতুন’। ফারসি এ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘বিবাহিত ভদ্র মহিলা’।
* সাহেব ও বাদশার স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে ‘বেগম’ ব্যবহৃত হয়। বেগম মানে সম্ভান্ত মহিলা। কিন্তু বেগমকে যখন ‘বেগম সাব’ বলা হয়, তখন তা হয়ে যায় অর্থহীন।
* গুলশান আর গুলজার নামের অর্থ ‘বাগান’। অথচ মেয়েরা ‘গুলশান’ আর ছেলেরা ‘গুলজার’ কেন হয়, তা বোঝা কঠিন।
* ‘মুজিব’ নামের অর্থ “যথাযত উত্তর”। এ নাম রাখলেই সবাই নামের তাৎপর্য অনুযায়ী ‘যথাযথ উত্তর’ দিতে পারেন না।
* কানিজ ফাতেমা নামটি শ্রুতিমধুর হলেও এ নামের অর্থ ‘ফাতেমার দাস’। এ জাতীয় নামের তালিকা অনেক লম্বা। গোলাম আলী, গোলাম মোহাম্মদ, গোলাম হোসেন, গোলাম রসুল এই তালিকায় পড়ে।
* ‘ইয়াকুব’ মানে দোয়েল পাখি। এটা মেয়েদের নাম হলে মানানসই হতো। সম্ভবত ইয়াকুব (আঃ) নবীর নামে অনেকে এ নাম রাখেন।
* বাংলাদেশের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নামটি সার্থক কিনা, তা ভাবা যেতে পারে। কারণ হুদা মানে সুপথ।
* আবার হাসিন মানে সুন্দর আর হাসিনা মানে ‘পরমা সুন্দরী ও পূণ্যবতী’। তবে খালেদা মানে ‘অমর’। সাহিরা মানে ‘ডাইনি’। সায়মা অর্থ উপবাসী।
* অভিনেতা আবুল হায়াতের ‘জীবন’ নামে কোনো ছেলে না থাকলেও তিনি যে ‘জীবনের বাবা’ তা নাম শুনেই বোঝা যায়। * অভিনেতা তারিক আনামের নামের অর্থ হচ্ছে ‘খাজনার পতাকা’।
* বাংলায় মেয়েদের নাম ‘সুন্দরী’ রাখা হয় না। তবে আরবি ‘শাকিলা’ মানেই ‘সুন্দরী।
* মেয়েরা ভালো বন্ধু হতে পারে। তবে তারা ‘বন্ধু’ নামটি মোটেও মেনে নেবে না। কিন্তু ‘মিতা’ রাখতে মোটেও আপত্তি করবে না। অথচ বন্ধু আর মিতায় পার্থক্য নেই।
* ‘আন্তরিক রাহমান’ নামটি কি খারাপ? তবে বাংলাদেশে ‘রাহমান’ একজনই। তিনি হলেন মরহুম কবি শামসুর রাহমান। বাকিরা ‘রহমান’।
* আমাদের দেশে মেয়েদের নামও আম্বিয়া রাখা হয়। ‘আ’ প্রত্যয় দেখে কেউ কেউ মনে করতে পারেন আম্বিয়া’ হয়তো স্ত্রীবাচক শব্দ। আরবি শব্দ আম্বিয়া মানে ‘নবীগণ’। এটা নবীর বহুবচন।
* সন্তানের নাম আরবিতে রাখতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। তবে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা এবং এ নামে ডাকতে ইসলামে বলা হয়েছে। কিন্তু আরবি নাম রাখতে গিয়ে অনেক সময় ভুল হচ্ছে।
* এদেশে একমাত্র সন্তানের নামও ‘জায়েদা’ রাখা হয়। অথচ জায়েদা মানে ‘অতিরিক্ত’।
* ‘শাহীন’ নামটি পুরুষবাচক। অথচ মেয়েদের নাম শাহীন রাখতেও দেখা যায়। আরবি শাহীন অর্থ বাজপাখি।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন