medicinal properties of amalaki-amla

সারা বছরের দেশীয় ফল আমলকী। সারা বছর ফলের দোকানে চোখে পড়ে এই ফল। অনেকেই আমলকী খেতে পছন্দ করলেও বেশিরভাগ মানুষ বিশেষত বাচ্চা দের কাছে এটি তেঁতো ফল। তাই এই ফল টি খেতে চান না অনেকেই। কিন্তু এই ছোট আকারের ফল টি যে শুধু ফল ই নয়, নানা গুণে সমৃদ্ধ ঔষুধ তা জেনে অবাক হবেন। আল হাদিসে বলা হয়েছিল, আল্লাহ যেখানে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার আশেপাশে খাদ্যশস্যের ভেতরেও রোগ আরোগ্যর শেফাও দিয়েছেন।

প্রতিদিন একটি করে আমলকী খেলে ভিটামিন সি এর অভাব পূরণ হয়। গবেষনায় দেখা গেছে, একটি আমলকী তে আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, লেবুর চেয়ে ১০ গুণ বেশি, কমলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ও কলার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি ভিটামিন সি আছে। এই আমলকি শুধু পথ্য যে তা নয়, এটি রুপচর্চায় ও ব্যবহৃত হয়।

আমলকীতে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে?

আমলকীর মধ্যে ৮০% পানি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে খাদ্য আঁশ, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়ঃ-

  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং ছানি দূর করতে সাহায্য করে।
  • হৃদযন্ত্রের মাংসপেশী শক্তিশালী করে তোলে।
  • রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • শরীরের লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
  • দাঁত ও নখ ভালো রাখে। ইনফেকশনের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ডায়রিয়া ও আমাশয় আক্রান্তদের জন্য উপকারী।
  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা কমায়।
  • ঠান্ডাজ্বর ও কাশিতে আমলকী ঔষুধের মত কাজ করে। এছাড়া এপিটাইজার হিসেবেও উপকারী।
  • চুলের বৃদ্ধি ও চুল পড়া রোধে আমলকীর উপকার করে।
  • পাকস্থলির এসিডের ভারসাম্য রক্ষা করতে আমলকী ভূমিকা রাখে।
  • ভিটামিন ‘সি’র অভাবে যেসব রোগ হয়, যেমনঃ স্কার্ভি, অর্শ প্রভৃতির ক্ষেত্রে আমলকী খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • হার্টের রোগীরা আমলকী খেলে বুকের ধড়ফড়ানি কমে।
  • শুকনো আমলকী এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে দুই ঘন্টা পর সেই পানিতে একটু শ্বেতচন্দন ও চিনি মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়।
  • আমলকী ক্ষধা বাড়ায় ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
  • বিভিন্ন রকমের তেল তৈরিতে আমলকী ব্যবহৃত হয়।
  • আমলকির রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে এক দুই ঘন্টা রেখে দিতে হবে এভাবে এক মাস ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল পড়া ও তাড়াতাড়ি চুল পাকা বন্ধ হয়।
  • আমলকী খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং দাগ থাকেনা।
  • আমলকীর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হৃদপিন্ডের পেশি শক্তিশালী করে।
  • আমলকীর রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয়।
  • এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকীর গুঁড়া ও সানাণ্য পানি মিশিয়ে দিনে দুবার খেতে পারেন।এসিডিটর সমস্যা থাকবেনা।
  • আমলকীর জুস কিংবা শুকনো যেভাবেই হোকনা কেন, দিনে একটি আমলকী খেলে ভিটামিন সি এর অভাব থাকেনা।
  • এপিটাইজার হিসেবে শুকনো আমলকীর গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়।
  • আমলকিতে সামাণ্য লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে রোদে শুকাতে দিন। শুকিয়ে যাওয়ার পর খেতে পারেন।
  • খাবারের সঙ্গে আমলকী আচার হিসেবে খেতে পারেন, হজমীর কাজ করবে।
  • আমলকী টুকরো করে ফুটন্ত পানির মধ্যে দিন। আমলকী নরম হলে নামিয়ে ঝরিয়ে নিন। এবার লবন, আদা কুচি, লেবুর রস মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে রাখুন। সারা বছর খেতে পারবেন

সাশ্রয় মূল্যে এবং হাতের কাছেই পাওয়া যায় এক আমলকীতেই যখন এত গুণ, তবে ফলটি কেন খাবেন না? বলা যায় যে প্রতিদিন অন্তত দুটি করে আমলকি খেলে শরীর হবে ছোটখাটো রোগের ঝুঁকিহীন। তাই প্রতিদিন চেষ্টা করুন অন্তত দুটি করে আমলকী খাওয়ার এবং অন্যদের ও উতসাহিত করুন।

মন্তব্য করুন

আপনার কমেন্ট লিখুন
আপনার নাম লিখুন