চল্লিশ পার হওয়ার পরপরই দেখা দিতে পারে সাদাচুল। কারণ এই সময় থেকেই শরীরে মেলানিন উৎপানের হার কমতে থাকে। তবে তরুণ বয়সে চুল পাকা রোধ করা যায় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে। এমকি বেশি বয়সে চুলে পাক ধরার প্রক্রিয়াও ধীর করে।

early hair whitening problemমানসিক চাপ, উদ্বেগ অথবা খাদ্যাভ্যাসে সঠিক ভারসাম্যের অভাবে অকালে চুল পেকে যেতে পারে। তবে এই সমস্যা রোধে রয়েছে প্রাকৃতিক পন্থা।

প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত এরকম পন্থাগুলো নিয়ে সাজসজ্জাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে বেশ কয়েকটি উপায় দেওয়া হল।

কারিপাতা ও নারিকেলের তেল: নারিকেল তেলের সঙ্গে কারিপাতা মিশিয়ে, মাথার ত্বকে মালিশ করুন। এটা চুল কালো রাখতে সাহায্য করে।

এক কাপ নারিকেল তেলে এক মুঠ কারিপাতা ছয় থেকে আট মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে এলে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করুন।

ঝিঙা ও জলপাইয়ের তেল: অকালপক্ক চুলের সমস্যা এড়াতে ও চুলের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনতে ঝিঙার ব্যবহার বেশ প্রচলিত।

ঝিঙা ছোট ছোট টুকরা করে কেটে তা শুকিয়ে নিন। এরপর জলপাইয়ের তেলে তিন চার দিন ভিজিয়ে রাখুন।

এই তেল গাঢ় রং না হওয়া পর্যন্ত আবার ফুটান। ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই তেল ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজ ও লেবুর রসের প্যাক: প্রাচীনকাল থেকেই অকালে সাদা হয়ে যাওয়া চুলের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পেঁয়াজ ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন।

মেহেদি ও ডিমের প্যাক: রংয়ের পাশাপাশি মেহেদি চুলের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে। এটা চুলের অকালপক্কতা দূর করে। পাশাপাশি চুল রাখে মসৃণ।

দুই টেবিল-চামচ মেহেদিপাতার গুঁড়ার সঙ্গে একটি ডিম ও এক টেবিল-চামচ সাধারণ দই নিয়ে তা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত লাগিয়ে ঢেকে রাখুন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

স্বাস্থ্যকর খাবার: চুল অকালে পেকে যাওয়া রোধ করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস চমৎকার কাজ করে। ভিটামিন বি ১২’য়ের অভাব অকালে চুল পাকে ও রুক্ষ হয়ে যায়।

মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, আখরোট, ব্রকলি ও সামদ্রিক মাছ দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যোগ করুন। এগুলো শরীরে ভিটামিন বি ১২’য়ের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।

সরিষার তেল: কেবল খাবারের স্বাদ বাড়াতে নয় সরিষার তেল চুলের যত্নেও ভালো কাজ করে। এটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, সেলেনিয়াম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ। যা প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি চুল শক্ত করে। তাছাড়া এই তেল চুল কালো করতে এবং অকালপক্কতা দূর করতেও সাহায্য করে।

দুতিন টেবিল-চামচ খাঁটি সরিষার তেল গরম করে মাথার ত্বকে ভালো মতো মালিশ করে লাগান। এই তেল অনেকটা ভারী ও চিটচিটে হয়। তাই তেল ব্যবহারের পরে মাথায় ক্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত অপেক্ষা করে চুল পরিষ্কার করে নিন। খাবার তালিকায় সরিষার তেল রাখতে পারেন এটা শরীরের জন্য উপকারী।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here