কার দায় সেটা না খুঁজে জনগনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ইং) বেলা ১১টায় নালায় তলিয়ে গিয়ে অকালে প্রাণ হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার বাসায় তার পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে তিনি উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

সুজন সমবেদনা জানাতে সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার বাসায় পৌঁছালে তার স্বজনরা সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় সুজন নিজেও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন এবং এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আশেপাশের পাড়া মহল্লার শত শত মানুষ এসে সেখানে হাজির হন। তারা সকলেই এর প্রতিকার চান। এসময় তিনি বলেন সাদিয়ার মতো সন্তান যে কোন পিতা মাতার জন্য একটি স্বপ্নের বীজের মতো। কিন্তু সে স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয়ে গিয়েছে নিদারুন গাফিলতি এবং কর্তব্য অবহেলায়। একটি রাষ্ট্রে একজন শিক্ষার্থী হাটতে গিয়ে নালায় পড়ে তলিয়ে যাবে যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে একের পর এক মৃত্যু হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আমাদেরকে ব্যথিত করে। জনগন কোন অবস্থাতেই কার দায় সেটা দেখতে চায় না। জনগনের প্রত্যাশা নিরাপদে হাটা চলার স্বস্তিকর পরিবেশ। তিনি আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের আগামী দিনের গুরুত্বকে অনুধাবন করেই নিজ থেকে চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছেন যা নিঃসন্দেহে চট্টগ্রামবাসীর জন্য সুখবর। আউটার সিটি রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নদীর তলদেশে টানেল, বে-টার্মিনাল, ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প ছাড়াও বিভিন্ন সেবা সংস্থার মাধ্যমে চট্টগ্রামে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে সব দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে যে সংস্থাসমূহের অদক্ষতা এবং উদাসীনতার কারণে জনভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নের কারণে দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত চট্টগ্রামের প্রধান সড়কটি খানাখন্দে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে ঐ সড়কে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে রাস্তার দুই পাশে পানি জমে কর্দমাক্ত হয় আবার শুস্ক মৌসুমে ধুলিঝড়ে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এই এলাকার মানুষের একটুকু স্বস্তিকর যাতায়াত কিংবা বসবাস যেন স্বপ্নের মতো। প্রতিদিন ছোট খাটো দূর্ঘটনা যেন ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী জনগনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মানুষ এ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। আমরা দেখতে পাচ্ছি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকার বিরোধী উসকানি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের কার্যতালিকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সড়কটি যান ও জনগনের চলাচল উপযোগী রাখা, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করাসহ প্রতিনিয়ত পানি ছিটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করার কথা থাকলেও তারা কোনটাই মানছে না। এতে করে দূর্ঘটনা বাড়ছে, হারাতে হচ্ছে অমূল্য প্রাণ। তাছাড়া সড়কবাতি না থাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে সড়ক এবং নালা মিলিত হয়ে পড়েছে। তিনি দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সড়কের যেসব স্থানে ত্রুটি আছে সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী না করা পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে ত্রুটিসমুহ অপসারণ এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিকট অনুরোধ জানান। নচেৎ জানমালের আর কোন ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ঐ প্রতিষ্টানকে বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন তিনি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকান্ড যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, পুলিশ প্রশাসন, ওয়াসাসহ সকল সেবা সংস্থাকে এক টেবিলে বসে এসব সমস্যার ত্বড়িৎ সমাধান করার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানান সুজন। পরে তিনি মরহুমার স্বজনদের নিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করেন। তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক লায়ন মো. হোসেন, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ইলিয়াছ, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক রেজাউল করিম কায়সার, বখতিয়ার মিয়া, মঞ্জুর আলম, হাজী মো. আবু তাহের, আমিনুল ইসলাম আমিন, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুল কবির, মো. জালাল মিয়া, রেজাউল করিম ইরান, সমীর মহাজন লিটন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রনি মির্জা, ওমর ফারুক, শাহনেওয়াজ আশরাফী, ইঞ্জি. মিঠু চৌধুরী, আব্দুর রহিম জিসান, তৌহিদুল ইসলাম, মহিউল আলম হাজী, মো. বেলাল, মো. কামরুল. ফয়সাল বাদশা, ফয়সাল ওয়াসি প্রমূখ।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here