একটা মাজার আছে মানেই সেই ব্যক্তির উরস পালন হবে এটাই বর্তমান সামাজিক রীতি। এই উরস শরিফকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে আশেক ভক্তরা নিজেদের নিয়তি স্বরূপ বিভিন্ন হাদিয়া নিয়ে মাজার শরিফে দলবদ্ধভাবে ছুটে আসেন। যেটি ঐতিহাসিকভাবে রাসুল পাক (দ)’র দরাবারেও হাদিয়া নিয়ে সাহাবা-ই কিরামগণ বিভিন্ন জৌলুস সহকারে আসতো।

বেশি গভীরে যাওয়ার অবকাশ নেবো না। শুধু এটাই বলবো, কোন কারণে স্থগিত হওয়া উরস শরিফের জন্য সংগৃহিত নগদ অর্থ বা অন্যান্য হাদিয়া মাজারে না দিয়ে তা স্থানীয় এলাকায় বিতরণ করার নির্দেশ দেয়ার মত সৎ সাহস বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

আর এমন একটি উদাহরণ জাগানীয়া মানবিক নির্দেশ দিলেন লক্ষ আশেকের প্রাণস্পন্দন, রাহবারে আলম মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মনজিল দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মহান রব তাঁর এই যোগ্য প্রতিনিধিকে উচ্চ সম্মানের সহিত দীর্ঘজীবী করুন)।

বৈশ্বিক করোনা মহামারির ২য় ঢেউয়ের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সময়ের সাথে সাথে করোনায় আক্রান্ত  রোগী ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা ভেবে গত ৫ এপ্রিল সোমবার থেকে সারাদেশে লক ডাউন ঘোষণা করেন সরকার।

দুঃখের বিষয় সেদিন ছিলে, কুতুবুল আকতাব গাউসুল আযম বিল বিরাসত হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র উরস শরিফ। সরকার ঘোষিত লক ডাউনের কারণে উক্ত উরস শরিফ শুধুমাত্র পারিবারিকভাবে পালন করে এর সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করেন গাউসিয়া হক মনজিল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু গাউসিয়া হক মনজিলে অন্যান্য উরস শরিফের মত এই উরসেও যথাযথভাবে পালনের জন্য মাসব্যাপি নানান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। যার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিলো। এ উপলক্ষে গাউসিয়া হক মনজিলের আওতাধীন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ নিয়ন্ত্রণাধীন দেশ-বিদেশের প্রায় ৭ শতাধিক শাখা কমিটিও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন আশেক ভক্ত থেকে হাদিয়া নজরানা সংগ্রহ করে দরবারে আগমন করেন।

যেহেতু উরস শরিফ স্থগিত করা হয়েছে তাই কমিটি কর্তৃক সংগৃহিত হাদিয়ার টাকা এলাকায় করোনায় পর্যুদস্তু মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন লক্ষ আশেকের প্রাণস্পন্দন, রাহবারে আলম আওলাদে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাইজভাণ্ডার শরিফ দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর  সাজ্জাদানশীন হযরতুলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী।

তাঁর এমন মানবিক নির্দেশে দেশব্যাপি একযোগে মানবিক কর্মসূচি পালন করছে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ সকল শাখা কমিটিসমূহ।

ছোট্ট একটি আহবান, তাতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ঘরে ঘরে চলে যাবে মানবিক সহায়তা। আলহামদুলিল্লাহ।

বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা যা ধর্মীয় তথা ইসলাম ও সুফিবাদের ইতিহাসেও নজিরবিহীন । উরস শরিফ কোন না কোন কারণে স্থগিত হবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু তাঁর জন্য সংগৃহিত হাদিয়ার অর্থ অকাতরে বিলি করা একটি অতুলীয় উদাহরণ যা তিনি করে দেখিছেন বিশ্ববাসীকে।

আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় হাবিব রাসুলে করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র যোগ্য প্রতিনিধির আদর্শ তাঁর কাছে বহমান । যার কারণে দুনিয়ার অর্থ মোহ তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। আলহামদুলিল্লাহ।

বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র অমীয় বাণী “আমার হাসান মিয়া আল্লাহ্ মস্ত বড় অলি, মানুষের কল্যাণের জন্য এসেছেন।”

আজ বিশ্ববাসী হাসান মিয়ার কল্যাণময় কাজের স্বাক্ষী হতে পেরেছে।

মওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারী’র কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ মাঝিরঘাট ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ড শাখার ব্যবস্থাপনায় মহান ২২ চৈত্র উরস শরিফ উপলক্ষ্যে সংগৃহিত হাদিয়ার অর্থ দিয়ে এলাকার করোনা পর্যুদস্তু পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, নগদ অর্থ ও চিকিৎসা খাতে বিভিন্ন অসহায় ব্যক্তিদের সহায়তা বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করা হবে,  ইনশা আল্লাহ। জয় হোক মানবতার।

মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান আশরাফ

লেখক-ইসলামী সংগঠক

 

1 COMMENT

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here