Chittagong কিভাবে Chattogram হলো

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ইংরেজিতে ও Chattogram সবক্ষেত্রে ব্যবহারের নির্দেশ ও বাস্তবায়ন করেন ২ এপ্রিল ২০১৮ সালে। প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 Chittagong কিভাবে Chattogram হলো ! “চট্টগ্রাম” Chattogram নাম পরিচিতির মধ্যে বিভিন্ন গুনী ব্যক্তি ও শেকড় সন্ধানীদের লেখনী থেকে জানতে পারলাম “চট্টগ্রাম” বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হলেও শেষ পর্যন্ত সবার মুখে ও সরকারি-বেসরকারি কাগজে কলমে “চট্টগ্রাম” নামই প্রতিষ্ঠিত ও নির্দিষ্ট নাম বর্তমান আছে।

তাই যদি হয় “চট্টগ্রাম” কে কেন ইংরেজিতে Chattogram লিখা হবে ? এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম এর চিন্তাবিদ অধ্যাপক ডা. ডি. কে. ঘোষ ১৯৮৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় পত্রিকা বাংলার বানী পত্রিকার মাধ্যমে ইংরেজিতে ও চট্টগ্রাম লেখার জন্য আবেদন শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, ম্যাগাজিন, জেলা প্রশাসক সমীপে স্মারক লিপি, পোস্টার, লিপলেট, ব্যানার সহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা ও সরকারের নিকট আবেদন নিবেদন করে আসছিলেন। জানাতে চেয়েছেন ঐতিহাসিকভাবে এক একটি জায়গা বা স্থানের নামে একটিই হয়ে থাকে। আমাদের বাংলাদেশে যেখানে বাংলা মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা সেখানে বাংলা নামের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে ইংরেজীতে লেখার সময় ইচ্ছামত বিকৃতভাবে উচ্চারণ করে নামের অমর্যাদা করা হবে কেন? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা (DACCA) কে ও উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে ইংরেজীতে DACCA লেখা হতো, বিগত বাংলাদেশ সরকার সংশোধন করে DACCA কে DHAKA লেখার জন্য সরকারি ঘোষণা দিয়ে বাস্তবায়ন করেছিলেন। পার্শ্ববর্তী ভারত ও CALCUTTA কলকাতাকে KOLKATA করেছেন। আমার প্রত্যক্ষ জানামতে ১৯৮৪ সাল থেকে বিভিন্নভাবে অধ্যাপক ডা. ডি. কে. ঘোষ ইংরেজিতে হুবুহু Chattogram বাস্তবায়নের জন্য দাবী জানালেও ওনার এই দাবী সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া মিলে নাই।

২০০৯ সালে Chattogram নামকরণের একটি গ্রন্থ প্রকাশিত করেন অধ্যাপক ডা. ডি. কে. ঘোষ। এই বইতে জনগণের সমর্থন, মতামত, যাদের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল তাদের ফটোসহ পত্রিকা কাটিং, পত্রিকার মাধ্যমে যারা সমর্থন করেছেন তাদের লেখা পত্রিকা কাটিং হুবুহু গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে। আরও স্থান পেয়েছে ১০০০ এক হাজার বৎসরের চট্টগ্রাম। গ্রন্থটি জনগণের কাছে সমাদৃত হয়েছিল। এই চট্টগ্রাম Chattogram গ্রন্থটির মোড়ক উম্মোচন করেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।

“চট্টগ্রাম” গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রন্থটি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে, মন্ত্রণালয়ে, গুনী-জ্ঞানী ব্যক্তিদের সমীপে বাই পোস্ট ও অনেকের হাতে হাতে পৌঁছায়ে দেয়া হয়েছিল। বহু জ্ঞানী গুনী, ব্যক্তি সংগঠন, প্রতিষ্ঠাতা ডা. ডি. কে. ঘোষকে সম্মানিত করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মননা, পদক, ক্রেষ্ট, উপহার প্রদান করেছেন। এই খানে একটি প্রয়োজনীয় কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, চট্টগ্রাম ইংরেজীতে Chattogram বাস্তবায়ন হওয়ার ৩ বৎসর অতিক্রম হলেও এখনও অনেকে চিটগাং Chittagong লিখছে। তবে পৃথিবীর অন্যান্য সব রাষ্ট্র Chattogram লিখতে বাধ্য হচ্ছে। যেহেতু চট্টগ্রাম হচ্ছে বাণিজ্য বন্দর।

চট্টগ্রাম Chattogram গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় সূচনাতে লেখক শুরু করেছেন-“চট্টগ্রাম” কে নিয়ে এই পর্যন্ত বহু বিজ্ঞ প্রাবন্ধিক, ভাষাবিদ, গবেষক, ইতিহাসবিধ ও দার্শনিকগণ অতিতে ঐতিহ্যের তত্ত্ব বিষয়ক নানা বিষয়ে প্রবন্ধ নিবেন্ধ লিখেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে পূর্ন চৌধুরী, আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ, আহম্মদ উল্লা খান বাহাদুর, তারক চন্দ্র দাশ, সৈয়দ আহমদুল হক, মাহবুবুল আলম, প্রসেফর ড. আব্দুল করিম, ওহীদুল আলম, আবদুল হক, মাহবুবুল আলম, প্রফেসর ড. আব্দুল করিম, ওহীদুল আলম আবদুল হক চৌধুরী, সৈয়দ মর্তুজা আলী, আহম্মদ শরীফ, সুনীতি ভূষণ কানুনগো, তৌফিকুল ইসলাম প্রমুখ পন্ডিত ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের ইতিবৃত্ত ও গৌরভদ্বীপ্ত লেখনির অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এরপরেও অনেক চিন্তাবিদ ও আলোচক ব্যক্তি চট্টগ্রামকে নিয়ে বহু অজানা তত্ত্বকে পাঠক সমাজে তুলে ধরেছেন।

লেখকের বক্তব্য হচ্ছে এত গুনী-জ্ঞানী পন্ডিত ব্যক্তিরা “চট্টগ্রাম” কে নিয়ে পান্ডিত্বপূর্ণ লেখালেখির মধ্যে চট্টগ্রামকে ইংরেজিতে কেন চিটাগাং লেখা হয় এবং চিটাগাং বলেও থাকেন, তার কোন প্রতিবাদ বা তত্ত্ব কারও  পান্ডুলিপিতে কেন স্থান পায় নাই।

এত কিছু যুক্তিসংগত তথ্য দেশবাসী তথা বাংলাদেশ সরকারের সমীপে আবেদন নিবেদন করার পরও যখন ইংরেজী Chattogram করা হচ্ছে না, তখন ডাঃ ডি. কে. ঘোষ বিগত ২০১৮ ইংরেজির জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ “সুধা ভবনের” ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ৪২৬ নং রেজিষ্ট্রি করে ২টি “চট্টগ্রাম” গ্রন্থ ও স্মারকলিপি প্রেরণ করলেন।

এরপর ২০ দিন অপেক্ষা করার পর কাল বিলম্ব না করে আর একটি স্মারকলিটি ও ২টি “চট্টগ্রাম” গ্রন্থ সহ অন্যান্য কাগজপত্র গণভবনের ঠিকানায় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে প্রেরণ করেন। উক্ত স্মারকলিপিতে লিখেছিলেন ইংরেজীতে ও Chattogram এর ব্যাপারে আপনি বাস্তবায়ন করবেন কি করবেন না, তাহা আপনার মুখ থেকে একটি জবাব চাই। অথবা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য অনুমতি দিয়ে বাধিত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ওনার শেষ স্মারকলিপিটি পাওয়ার সাথে সাথে একটি কমিটি গঠন করে তাদেরকে চট্টগ্রাম ও দেশের আর কোন কোন জেলার বাংলা নামের সাথে সামঞ্জস্য নাই তাহা তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কমিটি জরুরিভাবে তদন্ত করে যুক্তিসংগত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী বরাবরে পেশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী সংসদের মতামতের মাধ্যমে গত ২ এপ্রিল ২০১৮ ইংরেজিতে সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রামকে ইংজেরীতে CHATTOGRAM বাস্তবায়ন করেন।

এখানে এটাই প্রমাণিত যে, ডা. ডি. কে. ঘোষ  ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৪ বৎসর যে পরিশ্রম আন্দোলন, লেখালেখি সহ নিঃস্বার্থ ভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা সার্থক ও জয়ী হয়েছেন। এই জন্য প্রধানমন্ত্রী ও ডা. ডি. কে. ঘোষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

লেখক-আলহাজ্ব মো. ফরিদ উদ্দিন

সম্পাদক

দৈনিক শাহ আমানত

চট্টগ্রাম।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here