করোনার ধকল যেতে না যেতেই আবারো হানা দিলো এই মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পরিবর্তে ফের বাড়তে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তায় পড়ছে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে জুন-জুলাইয়ে এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ ফের করোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ২২ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে আবার পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষা। করোনার কারণে দুটি পরীক্ষা চলতি বছর নেওয়া যাবে নাকি ২০২০ সালের এইচএসসির মত বিশেষ মূল্যায়নের মাধ্যমে অটোপাস দেওয়া হবে তা নিয়ে সংশয় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্ব মহলে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হলে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে বাড়বে অনিশ্চয়তা। আবার কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার সময় চলে আসবে। শিক্ষাবোর্ডগুলোকেও ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কমপক্ষে এক মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত হয়ে পরবে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা।

অন্যদিকে, ২৩ মে যদি কলেজ খোলা সম্ভব হয় তাহলে ৮০ কর্ম দিবস সরাসরি ক্লাসে পাঠদান শেষ করে অক্টোবরের আগে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করাটাও সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে রয়েছে ঈদুল আজহাসহ নানা সরকারি ছুটি। আর যদি ২৩ মে  কলেজ খোলা সম্ভব না হয় তাহলে আরও পিছিয়ে যাবে এইচএসসি পরীক্ষা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের মত অটোপাস দেওয়ার কোনো চিন্তা বা পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তখনই এসএসসির ক্ষেত্রে ৬০ কার্যদিবস ও এইচএসসির ক্ষেত্রে ৮০ কার্যদিবস সরাসরি ক্লাসে পড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের অবহেলা না করে পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতির সম্পন্ন করতে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সাব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম আমিরুল ইসলাম বলেন, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি।শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে আগে জীবন তারপর পরীক্ষা। এখন দেশে করোনার যে পরিস্থিতি তাতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না। যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তখন পূর্বঘোষিত ৬০ ও ৮০ কার্যদিবস সরাসরি ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন করে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড। এ সিলেবাসের আলোকে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

জানা যায়, শিক্ষাবোর্ডগুলো ইতোমধ্যে ২০২১ সালের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশ করেছে পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা । প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে তা ছাপানোর জন্য প্রেসে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে শিক্ষাবোর্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেই নির্দেশনা মেনে নেয়া হবে পরীক্ষা।

রিপ্লাই দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here